জান্নাতের বর্ণনা |জান্নাত কেমন সুন্দর এবং কারা তাতে প্রবেশ করবে?

জান্নাতের বর্ণনা

জান্নাত যার শাব্দিক অর্থ হল “বাগান” প্রচলিত বাংলা ভাষায় আমরা বেহেশ্ত বলে থাকি ।
জান্নাত হল অফুরন্ত সুখের জায়গা ।
যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবে তারাই সেই চির সুখের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে ।

আবূ হুরায়রা্ (রাঃ) বলেন,আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুল আল্লাহ (সাঃ) কী দিয়ে জান্নাত তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ সোনা-রুপার ইট দিয়ে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ সুগন্ধি মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার এবং মাটি হলো জাফ্রান। জান্নাতে প্রবেশকারী লোক অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, কোন দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন স্পর্শ করবে না। সে অনন্তকাল এতে অবস্থান করবে আর কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। না তার পরনের পোশাক পুরনো হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে ।
(জামে’ আত-তিরমিজি-জান্নাতের বিবরণ )

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেনঃ জান্নাতীদের শরীরে কোন লোম থাকবে না, দাড়ি–গোঁফ থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। কখনো তাদের যৌবন শেষ হবে না, জামাও পুরনো হবে না।

(তিরমিজি-জান্নাতের বর্ণনা)

জান্নাতের প্রশস্ততা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
তুমি যখন দেখবে তখন দেখতে পাবে ভোগ বিলাসের নানান সামগ্রী আর এক বিশাল রাজ্য। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ২০)

মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় পাওয়া যায় সবশেষ যে জান্নাতে প্রবেশ করবে তার জান্নাতের সীমানা হবে এ পৃথিবীর ১০টার সমান । তাহলে জান্নাত কত বড় একটু চিন্তা করে দেখুন । সুবহানাল্লাহ

জান্নাতীদের প্রত্যেকের অট্টালিকায় তাঁবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে। 
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
তাঁবুতে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা। (আর রাহমান – ৭২)[২০]

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন’, জান্নাতের মধ্যে মোতির একটি তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে।
(সহীহ বুখারী, হাদিস সংখ্যা- ৪৮৭৯)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন, (জান্নাতের মধ্যে) দু’টি বাগান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হবে এবং (জান্নাতে) আরো দু’টি বাগান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু সোনার তৈরী হবে। আর জান্নাতে আদনের মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৮৭৮)

জান্নাতের মধ্যে সুন্দর সুন্দর বৃক্ষসমূহ থাকবে ,জান্নাতের বৃক্ষসমূহ কাঁটা বিহীন হবে ও তাদের ছায়া অনেক লম্বা হবে। 
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান! তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছগুলোর মাঝে। থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছায়া, অবিরাম প্রবাহমান পানি, আর পর্যাপ্ত ফলমূল । যা শেষ হবার নয় ও নিষিদ্ধ নয় (সূরাহ আল-ওয়াক্বি’আহঃ ২৭-৩৩)[

এই জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে এবং জান্নাতের বৃক্ষের মূলগুলি হবে স্বর্ণের।
‘রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতের প্রতিটি বৃক্ষের মূল হবে স্বর্ণের’। 
(তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)[

এই জান্নাতে ,জান্নাতীদের খাবার জন্য থাকবে বিভিন্ন ফল ।
আল্লাহ তা’আলা বলেন
মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে, আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল-যেটি তাদের মন চাইবে। (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও আর পান কর, তোমরা যে কাজ করেছিলে তার পুরস্কারস্বরূপ। সৎকর্মশীলদের আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি। (সূরাহ আল-মুরসালাতঃ ৪১-৪৪)

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন
জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া তাদের উপর থাকবে, আর ফলের গুচ্ছ একেবারে তাদের নাগালের মধ্যে রাখা হবে। (আদ-দাহর১৪

জান্নাতের ফলের ছড়া অনেক বড় হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে পাওয়া যায় যে, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে কোন কিছু হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পরে দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন”। রাসূলুল্লাহ্‌ সল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাতে থেকে ফলের একটা ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তবে তোমরা তা পৃথিবী কায়েম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে”। (সহীহ মুসলিম)
(জান্নাতের ফলের ছড়াগুলি অনেক বড় যা খেয়ে শেষ করা যাবে না)

সে জান্নাতে জান্নাতীদের জন্য পানীয় কেমন হবে সে সম্পর্কে , আল্লাহ তা’আলা বলেন,
মুত্তাক্বীদেরকে যে জান্নাতের ও’য়াদা দেয়া হয়েছে তার উপমা হলঃ তাতে আছে নির্মল পানির ঝর্ণা, আর আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সারাবের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী। (সূরাহ মুহাম্মদঃ ১৫)

এছাড়া জান্নাতীদের পান করার জন্য থাকবে হাউজে কাউসার ।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কাওসার জান্নাতের একটি নদী। যার উভয় তীর স্বর্ণ নির্মিত। তার পানি ইয়াকুত ও মোতির উপর প্রবাহমান। তার মাটি মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। তার পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি এবং বরফের চেয়ে অধিক সাদা”। (তিরমিজী)[৩৫]

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কাওছার কি? তিনি বললেন, “এটি একটি নদী, যা আল্লাহ্‌ তা’আলা জান্নাতে আমাকে প্রদান করেছেন । তার পানি দুধ অপেক্ষা সাদা এবং মধু থেকেও মিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে বহু পাখি। এগুলোর গর্দান হবে উটের গর্দানের মত”।
উমার (রাঃ) বলেন, তাহলে তো এগুলা সতেজ হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যারা এগুলো আহার করবে, তারা আরো সুন্দর ও সুখী হবে।

(তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)

আল্লাহ তা’আলা বলেন
তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে রুপার পাত্র পরিবেশন করা হবে আর সাদা পাথরের পানপাত্র। সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরি। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে। তাদেরকে পান করানোর জন্য এমন পাত্র পরিবেশন করা হবে যাতে আদার মিশ্রণ থাকবে। সেখানে আছে একটা ঝর্ণা, যার নাম সালসাবীল। (সূরাহ আদ্‌-দাহ্‌রঃ ১৫-১৮)

সুবহানাল্লাহ

আল্লাহতালা জান্নাতকে অগণিত নেয়ামত দ্বারা মুমিনদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন । একজন জান্নাতি জান্নাতে গিয়ে এ সমস্ত নেয়ামত ভোগ করতে পারবে ।
প্রিয় পাঠক জান্নাতের গুণাবলী বর্ণনা করে শেষ হবে না । তবে কোরআন ও হাদিসের মধ্যে স্পষ্ট ভাবে যেগুলি পাওয়া যায় ইনশাআল্লাহ একের পর এক আলোচনা করব ।

প্রবন্ধের পরিবর্তন না ঘটিয়ে , বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে সাওয়াবে দারাইন হাসিল করুন ।

আব্দুল আজিজ কাদেরী

Spread the love

Leave a Comment